বাক্সে মোড়ানো ‘রঙ পেনসিল’


একটু মোম মোম গন্ধ, আবার সাথে কাঠ কাঠ মৃদু ঘ্রান, সাথে প্রানবন্ত সেই কৈশোর। এমন মায়াময় শৈশবে কার না ছিল ১২,২৪ অথবা ৪৮ কালারের একটা বক্স! সেই জাদুময় রঙগুলো দিয়ে কোন কাজ করার দরকার নেই, শুধু বক্সটা খুলে তাকিয়ে থাকলেও কত রঙিন হয়ে যেতও মনটা। এই রং দিয়েই কত কিছু আকিবুকি করে ফেলতাম। কিছু হতও ধারাবাহিক চিত্র কিছু আবার হতও একদমই অনর্থক নিজেকে ভোলানো শিল্পকর্ম। তবুও কিন্তু দিনশেষে ধরতে কষ্ট হতও, যদি না ফুরিয়ে যায় শখের এই রঙগুলো।

এভাবে খয় হয়ে যাওয়ার মায়া ত্যাগ করে কতই না শিল্পকর্ম বিখ্যাত হয়েছে এই রং পেনসিলের বদৌলতে। কত শিল্পী হয়েছেন পুরস্কৃত। অথচ ইতিহাসের পাতায় খোঁজ করলে দেখা যায় , এই রং পেনসিল আবিষ্কারের প্রথম দিকে এর ব্যাবহার কোন শিল্পীদের কাছেই জনপ্রিয়ও ছিলনা আর যতটুকু ব্যাবহার হতও তা সীমাবদ্ধ থাকতও লেখালেখির ক্ষেত্রে, যেমন – মারকিং বা চেক লিখা এইসব কাজে। মার্কার হিসেবে তা প্রথম তৈরি হয় জার্মানীর স্টেডলার কোম্পানিতে।

১৯শতকে গ্রীকযুগেই যতদূর জানা যায় মোম রং এর প্রথম উৎপত্তি। এরপর শিল্পায়নে রং পেনসিলের প্রথম বাণিজ্যিক ব্যাবহার শুরু হয় ১৯২৪ সালে Faber castell কোম্পানির মাধ্যমে। পরবর্তীতে এধরনের বিভিন্ন কোম্পানীগুলোর রং পেনসিলগুলোর তৈরি পদ্ধতি মূলতও একই ধরণের হয়ে থাকে। মজার তথ্য হলও মিডিয়াম সাইজের একটি অলিভ গাছ থেকে ৩লক্ষ রং পেনসিল তৈরি যায়। যা কিনা হিসেব করলে দেখা যায় প্রায় ৮ হাজার রং পেনসিল বক্স এর সমান। আর দৃষ্টি নন্দন এসব বক্সে থাকে কত না রং আর শেডের সমারোহ ।তার চেয়ে মজার ব্যাপার হলও একটা রং আরেকটা রঙের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে সৃষ্টি করে আরেকটি নতুন নান্দনিক রঙের। যেমন- লাল+নীল=বেগুনী, হলুদ+নীল= সবুজ, লাল+ হলুদ= কমলা; আরও কত রঙ আর রঙের শেড।

এমনই সব রং এর সমাহার কেনাবেচা হয় সারা বিশ্বে। তবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রং পেনসিল বক্স বিক্রি করে জাপানিজ এক কোম্পানি যার নাম ফেলিসিমো। সেই সেটটিতে রং পেনসিল এর সংখ্যা ছিল ৫০০টি এবং প্রতিটি রং ছিল ভিন্ন। মিলেমিশে থাকা মনভোলানো এই ৫০০ রঙের এক সেট বক্স যে কি পরিমান লোভনীয়ও হতে পারে তা কেবল ব্যাবহারকারি আর রঙের প্রতি যাদের ভালোবাসা আছে তারাই বুঝবে। যদিও এসব প্রতিটি রঙের রয়েছে স্বকীয় নামকরন। তবে হাজার রঙের দাপত আর বাহাদুরিতে সবচেয়ে বেশী আধিপত্য থেকে যায় লাল, নীল, হলুদের রঙের কাছে। কারণ, এদের অস্তিত্বেই লুকিয়ে থাকে হাজার হাজার নতুন রঙের উদ্ভাবনি। আর সবচেয়ে বড় কথা হলও, এদের সুশৃঙখল বন্ধন আর রঙের দ্যুতিময় আলোড়নেই প্রতীক হয়েই গড়ে উঠে শিল্পীর সৃষ্টি। আর সব সৃষ্টির আদি হাতেখড়িতে লুকিয়ে থাকে জাদুময়ি বাক্সে মোড়ানো ভালবাসার ‘রঙ পেনসিলগুলো’।


Like it? Share with your friends!

10SHARES
1
Your reaction?
Angry Angry
0
Angry
Cute Cute
1
Cute
Fail Fail
0
Fail
Geeky Geeky
0
Geeky
Lol Lol
1
Lol
Love Love
1
Love
OMG OMG
1
OMG

log in

reset password

Back to
log in